সারিয়াকান্দিতে ধনীদের ৬৫ বছরে বয়স্ক ভাতার কার্ড হলেও ৭২ বছরেও মিলছেনা প্রতিব’ন্ধী আজিম উদ্দীন আকন্দের বয়স্ক ভাতার কার্ড।

নির্বাচনের সময় অনেকেই কথার বুলি ফোটালেও ভোটে জিতার পরে গরীবের কথামনে থাকে না বললেই চলে।

নির্বাচনের আগে অনেকেই বয়ষ্ক ভাতা বা প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড দেয়ার কথা বললেও কাজ হয়নি এখনও।

ক’রোনার ম’হামা’রির সময়ও তাকে ভিক্ষা করে সংসারচালাতে হচ্ছে। মিলছে না স’রকারি তেমন কোন সহযেগীতা।

যে বয়সে একটু বিশ্রাম নেওয়ার কথা। নাতি-নাতনিদের সাথে হেসে খেলে বেড়ানোর কথা,

কিন্তু শেষবয়সে এসেও নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে এক মুঠো ভাতের ব্যবস্থা করতে গ্রামে-গঞ্জে,

পাড়া-মহল্লায় গিয়ে একমুঠো চাউলের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হচ্ছে।

দেশে স’রকারিভাবে নারীরা ৬২ আর পুরুষার ৬৫ বছর বয়সে কর্ম অক্ষমতার কারণে বয়স্ক ভাতা ব্যবস্থা চালু

থাকলেও তাঁর বয়স ৭২বছরে ছুঁইছুঁই করলেও ভাগ্যেজোটেনি স’রকারিভাবে চালুকৃত সে সব সুবিধা।

একটি হৃদয়বিদারক ঘটানা ঘটেছে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কুতুবপুর ইউনিয়নের ছোট কুতুবপুর

গ্রামের মরহুম মুনছের আকন্দ ও মরহুমা জবো বেগমের ছেলে মোঃ আজিম উদ্দীন আকন্দ নামের এক অতি বৃ’দ্ধ প্রতিবন্ধির বেলায়।

সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় বছর দশেক ধরে কুতুবপুর অস্থায়ীবন্যা নিয়নন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিম পার্শ্বে স’রকারি

যায়গার উপর আশ্রয় নিয়ে আছেআজিম উদ্দীন আকন্দ। ২০১১ সালের বন্যায় তার ভিটে মাটি যমুনা নদীর

কোরাল গ্রাসের শি’কার হয়ে কুতুবপুর বাঙালী নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এখন তিনিকুতুবপুর-ঘুঘুমাড়ি

সড়কের পার্শ্বে কয়েক ফর্দ টিনের ছাউনি দিয়ে মেঘ-বৃষ্টিউপেক্ষা করে কোনমতে রাত্রী জাপন করে আসছেন।

জানা গেছে, এক ছেলে-বউ এবং স্ত্রী নিয়ে সংসার তার। কিন্তু ছেলে বিয়ে করে স্ত্রী-স’ন্তান নিয়ে পৃথকভাবে সংসার গুছিয়ে নিয়েছে।

অভাব আর হাহাকারে দিন কা’টানো আজিম উদ্দীন নামেই যেন জীবন বাঁচিয়ে রেখেছেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র (১০১৮১৬৩৩৯৪৩২৪) সূত্রে বয়স ৭২ বছর ছুঁইছুঁই করছে।

স’রকারি বিধি মোতাবেক নারীরা ৬২বছর আর পুরুষরা ৬৫ বছর বয়সে স’রকারি ভাতা পাওয়ার কথা ছিলো।

তার স্ত্রী বলেন, ভুতপুর্ব এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়ার্ড মেম্বরসহ অনেকেরই কাছে প্রতিনিয়ত

ধর্না দিয়েছেন কাহারো কাহারো পা পর্যন্ত ধরে অনুনয় বিনয় করেও একটি ভাতা কার্ড বা অন্যান্য সুবিধা পায় নাই।

লোকটা এখন অ’সুস্থ্য ভিক্ষা করাও তার জন্য খুব কঠিন। ছোট বেলা থেকেই আধ পাগল আর আয়

রোজগারের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় সংসার সামলাতে গ্রামে গঞ্জে গিয়ে ভিক্ষা বৃত্তি করে কোনমতে

জীবন পার করছেন। রো’গ আর বয়সের ভারে আগের মতো দূরের গ্রাম গঞ্জে যেতে পারেন না ফলে জীবিকা নির্বাহ হয়ে পড়েছে ক’ষ্ট সাধ্য।

কুতুবপুর অস্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণবাঁধের উপর আশ্রয় নেওয়া ও চন্দনবাইশা ইউনিয়নের শাহীন আলম

কাজী নামে একব্যক্তি বলেন, আশপাশে অনেক লোক ভাতাভোগীর উপযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও

বিভিন্ন কিছুর বিনিময়ে তাদেরকে সুবিধাভোগীর আওতায় আনার কথা শুনা যায়।

কিন্তু আজিমউদ্দীন একজন প্রকৃত হতদরিদ্র হওয়ায় তাকে এর আওতায় আনা হচ্ছে না। এটা আসলেখুবই দুঃখজনক বি’ষয়।

নাম জানা আরও অনেকে আজিম উদ্দীন পাগ’লার জন্য বয়স্কএকটি ভাতা কিংবা

প্রতিব’ন্ধী ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় ইউপিচেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এক স্বাক্ষাৎকারে আজিম উদ্দীনের স্ত্রী মালেঞ্চা বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ আমাদের টাকা করি নেই। কে দিবে কার্ড?

ভু’ক্তভোগী আজিম উদ্দীন আকন্দ হৃদয়বিদারক কন্ঠে বলেন, আমি একজন কর্ম অক্ষম ব্যাক্তি।

আমার জমি নেই, ঘর নেই, নেই বলে আমার কিচ্ছুই নেই। আমি অ’সুস্থ্যতার কারণে

একদিন গায়ের উপর ভিক্ষা করতে না গেলে সেদিন আর আমার চুলায় আ’গুন জ্ব’লে না।

পরিশেষে তিনি তার জন্য একটি ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

উপজে’লা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাসেল মিয়া বলেন, আমরা ইতমধ্যে তাঁর সাথে যোগাযোগ করে সহযোগীতার ব্যবস্থা করছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে সকল ধরনের সহযোগীতা করা হবে। পরবর্তীতে তাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here