তিনি একজন মুয়াজ্জিন। বয়স ৮০ ছুঁইছুঁই। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়তে ছুটে যান মসজিদে। এ বৃ’দ্ধ অবস্থাতেও পায়ে হেঁটে মসজিদে গিয়ে আজান দেন নিয়মিত।

জানা যায়, তিনি এ বয়সেও আজান ছাড়তে চাননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এ মুয়াজ্জিন সৌদি রাজধানী রিয়াদের একটি মসজিদের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।

তিনি এ মসজিদটিরই মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ ৪০ বছর। এ ৪০ বছরে তিনি কোনো দিন জামাত মিস করেননি। বাড়ি থেকে দূরত্ব সত্ত্বেও প্রতিদিন মসজিদে যান তিনি।

তিনি তার লা’ঠিতে ভর করে উপস্থিত হোন মসজিদে। তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি আল্লাহর থেকে জান্নাত ও ক্ষমা পাওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে প্রতিদিন মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাই। আবার পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরি।

পৃথিবীর প্রথম জমিন হচ্ছে পবিত্র কাবাঘর

মু’সলিম ইম্মাহর ভাষ্য মতে এটাকে বলা হয় বাইতুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ ও পবিত্র কাবাঘরও বলা হয়ে থাকে।

এই পবিত্র কাবা ঘরের অভিমুখী হয়েই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করেন পৃথিবীর কোটি কোটি মু’সলিম। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মহান পবিত্র এই কাবাকে মহান আল্লাহ তার মনোনীত বান্দাদের মিলনস্থল করেছেন।

আমরা সকলেই জানি , ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। এ বি’ষয়ে পিএইচডি করেছেন ড. হুসাইন কামাল উদ্দীন আহমদ। তাঁর থিসিসের শিরোনাম হলো—‘ইসকাতুল কুররাতিল আরধিয়্যা বিন্ নিসবতে লি মাক্কাতিল মুকাররামা।’ (মাজাল্লাতুল বুহুসুল ইসলামিয়া, রিয়াদ : ২/২৯২)

ওই থিসিসে তিনি প্রাচীন ও আধুনিক দলিল-দস্তাবেজের আলোকে এ কথা প্রমাণ করেছেন যে কাবাই পৃথিবীর মেরুদ’ণ্ড ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে অবস্থিত। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পানিসর্বস্ব পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

আরেকটি বি’ষয় হলো, মাটিতে রূপান্তর হওয়ার আগে কাবা সাদা ফেনা আকারে ছিল। সে সময় পৃথিবীতে পানি ছাড়া কিছু ছিল না। আল্লাহর আরশ ছিল পানির ও’পর।

হাদিসের ভাষ্য মতে, কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় অন্য সব মহাদেশ। মাটি বিছানোর পর জমিন নড়তে থাকে। হেলতে থাকে।

এর জন্য মহান আল্লাহ পাহাড় সৃষ্টি করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে আন্দোলিত না হয় (হেলে না যায়)।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১৫)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here