গতবছর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের শুরুটা বেশ দারুণভাবে করেছিল বাংলাদেশ । প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হা’রিয়ে সেবারো ভালো কিছু করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন মাশরাফি-সাকিবরা। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরবর্তিতে সেই ধারাবাহিকতা তাঁরা আর ধরে রাখতে পারেননি। ফলে টুর্নামেন্ট শেষে একরাশ হতাশাকে সঙ্গী করেই দেশে ফিরতে হয়েছে টাইগারদের।

অবশ্য গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বলার মতো তেমন কোনো দলীয় অর্জন না থাকলেও, ভক্তদের জন্য গর্ব করার মতো কিছু উপলক্ষ ঠিকই তৈরি হয়েছিল সুপারম্যান সাকিব আল হাসানের বদৌলতে। কেননা, পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে সেবার গ্রুপ পর্বের মাত্র ৯ ম্যাচে ৭৫.৭৫ গড়ে ৬০৬ রান করেছিলেন তিনি। আর এই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের নেপথ্যে ছিল তাঁর তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করা।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রথম প্রথম তামিম ইকবালের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারও চাননি যে, সাকিব টপ অর্ডারে ব্যাটিং করতে নামেন।এদিকে সাকিব নিজেও তিনে ব্যাটিং করে খু্ব একটা অভ্যস্থ ছিলেন না। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই খেলে আসছিলেন মিডল অর্ডারে। এরপর মাঝখানে যখন টাইগারদের জন্য তিন নম্বর পজিশনটা একরকম চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন নির্বাচকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে সাকিবকেও সেখানে কয়েক ম্যাচ খেলান।

তবে ঐ পজিশনে নিজের অবস্থানটা পাকাপোক্ত করে নেওয়ার বুদ্ধিটা সাকিব পেয়েছিলেন প্রোটিয়ান কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবিডি ভিলিয়ার্সের কাছ থেকে। বিশ্বকাপের আগে শেষ যেবার বিপিএল আয়োজিত হয়েছিল, সেবারই ভিলিয়ার্সের সঙ্গে এপ্রসঙ্গে আলোচনা করেছিলেন তিনি।

সেই সময়ের স্মৃ’তিচারণা করতে গিয়ে সম্প্রতি সাকিব বলেছেন, ‘বিপিএল চলাকালীন, বিশ্বকাপের আগে আমি এবি ডি ভিলিয়ার্সের সাথে কথা বলছিলাম। সে আমাকে বলল যে, সে সবসময় ৪/৫/৬ নম্বরে ব্যাটিং করেছে। কিন্তু সে যদি তিন নম্বরে ব্যাটিং করতো, তাহলে দলের জন্য আরো অবদান রাখতে পারত এবং রান করতে পারত। কিন্তু দলের কথা ভেবেই তাকে সবসময় ৪/৫/৬ নম্বরে খেলতে হয়েছে।’

সাকিব আরো জানান, ভিলিয়ার্সের ঐ আক্ষেপই তাঁকে পরবর্তিতে তিন নম্বরে খেলার জন্য প্রলুব্ধ করেছিল। তাঁর বক্তব্য, ‘ডি ভিলিয়ার্স বলেছে, ও মিডল অর্ডারে খেলে ৭০-৮০ রান করত। ঐ রানগুলো মাঝেমাঝে দলের জন্য কাজে লাগতো, আবার মাঝেমাঝে কাজে আসত না। কিন্তু তিনে খেললে সে ১০০-১২০ করতে পারত।

এরপর ব্যাপারটিকে আরো পরিষ্কার করে সাকিব বললেন, ‘ধরা যাক, যদি দ্রুত দল ২/৩ উইকেট হারায়, তবে তিন নম্বরে নামা ব্যাটসম্যান হাল ধরে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, এক্ষেত্রে যদি সে বড় স্কোর করতে পারে, তবে পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা চা’পে পড়ত না। আমি বিশ্বাস করি, সাফল্য আনতে উদ্দেশ্যই মূল ভূমিকা পালন করে। যদি উদ্দেশ্য সফল হয়, তবে আপনি সাফল্য পাবেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here