জনগণনের ২৫০০ টাকায় কেলেঙ্কারি, নতুন পদ্ধতিতে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিল সরকার

ক’রোনার কারণে সারাদেশের ক্ষ’তিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে এককালীন নগদ আড়াই হাজার টাকা করে মোবাইল একাউন্টে দিচ্ছে স’রকার।

গত ১৪ মে থেকে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই বিতরণ কার্যক্রম চলবে ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত।

কিন্তু এর মধ্যেই এই কার্যক্রম নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। জানা গেছে, তালিকায় থাকা একই নম্বর একাধিবার ব্যবহার করা হয়েছে।

নগদ অর্থ সহায়তা পাঠানোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে একই নম্বর দেয়া হয়েছে। আর এমন ঘটনা সারা দেশেই ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

আর এই অভিযোগ ওঠার পর বিকল্প ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে স’রকার। এই ব্যবস্থায় বাদ পড়াদের নতুন মোবাইল নম্বর অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে দু’র্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ ম’ন্ত্রণালয়ের সিনিয়র স’চিব মো. শাহ্‌ কামাল গণমাধ্যমকে জানান, ডাটা কালেকশনের ফরমে মোবাইল নম্বরের একটা অপশন রয়েছে।

গ্রামের সকল দরিদ্র পরিবারের তো আর মোবাইল নম্বর নেই। তাই স্থানীয়ভাবে একই নম্বর বার বার ব্যবহার করে এই তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হয়েছে।

তবে স্ক্যানিংয়ের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মোবাইল নম্বর মেলানোর সময় তালিকার অনেক নাম বাতিল হয়ে গেছে।

বাদ পড়াদের সহযোগিতার বি’ষয়ে এই সিনিয়র স’চিব আরো বলেন, এখন নতুন করে এনআইডির সঙ্গে মিলিয়ে নতুন মোবাইল নম্বরে অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা নিতে হবে।

ন্যাশনাল আইডির সঙ্গে মোবাইল নম্বর না মেলার সংখ্যা ৮ লাখ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বি’ষয়টি তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ বলতে পারবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তারা সব ঠিক করবে।

৫০ লাখ পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঈদ উপহার নিয়ে ব্যাপক দু’র্নীতি ও অনিয়ম হচ্ছে।

এ টাকা সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টে যাওয়ার কারণে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা একই ফোন নাম্বার ৩০/৪০ বার করে দিয়ে গরিবের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।

এ কারণে তালিকায় থাকা ৮ লাখ মোবাইল নাম্বার বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) রাত নটায় এ ঘোষণা দেয়া হয়।

জানা গেছে, তালিকায় একাধিকবার থাকায় এই আট লাখ মোবাইল নম্বর বাতিল করা হয়েছে। তথ্যটি জানিয়েছেন দু’র্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরো জানান, তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। যারা টাকা পান নি তাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা চলে যাবে


‘ভোটার আইডি-মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করে টাকা ছাড়া হবে’

ঢাকা: ক’রোনা ভাই’রাস সং’কটে অ’সহায় পরিবারের মধ্যে আড়াই হাজার করে টাকা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উদ্যোগ নিয়েছেন,

সেখানে অনিয়ম করে টাকা পাওয়ার সুযোগ নেই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস স’চিব আশরাফুল আলম খোকন।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ কর্মসূচির সারাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তালিকার প্রত্যেকের ভোটার আইডি ও মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করে এরপর টাকা ছাড়া হবে বলে এ সতর্কবার্তা দেন।

পোস্টে তিনি বলেন, ক’রোনাকালীন সং’কটের কারণে তৃণমূলের কর্মহীন গরিব ৫০ লাখ পরিবারের জন্য আড়াই হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর তালিকা তৈরি করেছেন স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এরমধ্যে হবিগঞ্জ, বাগেরহাটের দুইটি ইউনিয়নসহ কয়েকটি জায়গায় কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে।

শতাধিক নামের বিপরীতে ১/২টি ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা গেলে সবার টাকা ওই ১/২টি নম্বরের ব্যক্তিরা পেয়ে যাবেন।

আশরাফুল আলম খোকন বলেন, দেশে মেম্বার ৪১ হাজার ১৩৯ জন। নারী মেম্বার ১৩ হাজার ৭১৩ জন।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চার হাজার ৫৭১ জন। এরমধ্যে ৪/৫ জন এই অ’পকর্মটি করেছেন।

তিনি বলেন, প্রথমত: এই অনিয়মটি স্থানীয় পর্যায়ে স’রকারই ধরেছে। এমন না যে যাচাই-বাছাই শেষে ওরা টাকা পেয়ে গেছেন।

আর যদি যাচাই-বাছাই শেষে এ রকম তালিকা কেন্দ্রে আসেও তাও তাদের টাকা পাবার কোনো সুযোগ নেই। কারণ নামের সঙ্গে ভোটার আইডি নম্বর ও মোবাইল নম্বর অটোমেটেড সিস্টেমে ভেরিফাই করে এরপর টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সাত লাখের বেশি পরিবারকে টাকা পাঠানো হয়েছে। প্রতিটা ভোটার আইডি নম্বরের সঙ্গে নাম ও ফোন নম্বর ভেরিফাই করে দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

খোকন বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে ৪/৫ দু’র্নীতিবাজও এরকমটি ঘটাবেন না, তা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। ঘটনার প্রতিকার হয়েছে কি-না, সেটা দেখেন।

এখন আর কোনো চাল চু’রির খবর শোনেন? সব বন্ধ হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার ও’পর আস্থা রাখেন। দেশ ভালো থাকবে। আপনারাও ভালো থাকবেন।

1 thought on “জনগণনের ২৫০০ টাকায় কেলেঙ্কারি, নতুন পদ্ধতিতে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিল সরকার”

  1. পোস্ট অফিসের ই ডি কর্মচারীরাও এ ২৫০০ টাকা পাওয়ার যোগ্য, কারণ তাদের বেতন ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা মাত্র। কিন্তু তা না করে উল্টো তাদের বেতন থেকে ৫০০ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ছুটির কারণে মানুষের কাঁছে যে ১০-১৫ টাকা পেত তা এখন বন্ধ। ৪৪০০ টাকা দিয়ে কি কোন সংসার চলে? তার ওপর আবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার জন্য যদি ৫০০ টাকা বেতন থেকে কেটে নেয়! এটা তো অন্যায়, মন চায় আত্ম-হত্যা করতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *