ক’রোনা ভাই’রাস প্রকো’পে বিশ্বের কোথাও মু’সলমানদের বিরাট জমায়েতে ঈদের নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়নি কিন্তু জার্মানিতে অবস্থিত মু’সলমানদের অনুরোধে ফ্রাঙ্কফোর্ট শহরের কাছে “সিটি অফ ওয়েজলার” একটি ব্যতিক্রমী ঈদের জামাত আয়োজন করে বিশ্বে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

আইকিয়া পার্কিং লটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাত আদায় কালীন সময়ে প্রশাসন যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে বলে জানা যায়।

এমনকি মু’সলমানদের এই অবিস্মরণীয় স্মৃ’তি দেখতে ড্রো’নের মাধ্যমে স’রকারিভাবে ভিডিও এবং স্থির চিত্র ধারণ করা হয়েছে। যারা কিনা এমন বিরল ঐতিহাসিক ঈদের নামাজে অংশ নিতে পেরেছেন তারাও ঈদের বাড়তি আনন্দ উপভোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন এক জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশী।

আসুন জেনে নেই কিভাবে সম্ভব হলো: সারা বিশ্বে যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে স’রকারি আইন করা হয়েছে- বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মসজিদ, মাদ্রসা, গির্জা, মন্দির, সিনাগগ সহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয় তখন থেকেই মূলত ধর্মীয় গুরুজন সহ স্বাভাবিক ধর্মভীরু মানুষের হৃদয়ে র’ক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপরে চলে আসে, মসজিদে যেতে না পাড়ার ব্যথায় আকুল হয়ে ওঠে সকলের মন। চিন্তায় পরে যায় ঈদের জামাত নিয়ে!

তাহলে কি ঈদের নামাজ ছাড়াই উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর? এমন কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই জার্মানির ফ্রাঙ্কফোর্ড শহরে কাছে সিটি অফ ওয়েজলার বাসীরা ব্যতিক্রমী আবেদন করে বসেন স্থানীয় আইকিয়া শপিং মলের ম্যানেজমেন্টের কাছে। আবেদনে উলে­খ করা হয় স্থানীয় আইন মেনে অর্থাৎ সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখেই আয়োজন করা হবে ঈদের জামাত!

আইকিয়া ম্যানেজমেন্ট স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মু’সলমানদের এমন স্পর্শ কাতর দাবিতে সারা দেন, ব্যাস! ঈদের দিন সকাল বেলা হাজার হাজার মু’সলমান মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আদায় করেন শুভ ঈদের জামাত!

নামাজ চলাকালীন সময়ে মু’সলমানদের সম্মান দেখিয়ে দূর থেকে ড্রো’নের মাধ্যমে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও তোলা হয়েছে। এছাড়া মুসুলি­দের ক্যামেরায় রয়েছে হাজারো ছবি।

এ যেন এক ঐতিহাসিক সাক্ষী- বিশ্বের একমাত্র দেশ জার্মান মু’সলমানদের এই ইতিহাস গড়তে সাহায্য করলেন তাই স্থানীয় মু’সলমানদের পক্ষে স্থানীয় প্রশসনকে জানালেন “থ্যাঙ্ক ইউ”
ঈদ মোবারক!

ব্রিটেনে ইতিহাস গড়লেন হিজাব পরা রাফিয়া আরশাদ

ব্রিটেনে জাতিগত সংখ্যালঘু পরিবারের এক নারী অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন জীবনে সফল কিছু করে। আর ওই নারীর মতো হতে চায় অন্য নারীরা। এমন হতে কী করতে হবে – অভিভাবকদের এমন প্রশ্ন করে বড় হয়েছেন কি’শোরী বয়সের এক মেয়ে। আর ওই মেয়ে যখন মাত্র এগার বছরের বালিকা তখন স্বপ্ন দেখত জীবনে সে একদিন আইনজীবী হবে। প্রায় ৩০ বছর পর ব্যারিস্টার হয়ে পূরণ হয়েছে ওই বালিকার স্বপ্ন। তার স্বপ্ন পূরণের সাথে হয়েছেন তিনি ব্রিটেনের প্রথম হিজাব পরিহিতা মহিলা জাজ। তিনি রাফিয়া আরশাদ।

৪০ বছরের পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত রাফিয়া আরশাদ তিন স’ন্তানের জননী। সম্প্রতি তিনি নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিটেনের মিডল্যান্ড সার্কিটের ডেপুটি ডিসট্রিক্ট জাজ হিসেবে। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি খুশি এবং অন্যান্য মানুষের সাথে আমার সফলতা শেয়ার করতে পেরে বেশি আরো বেশি ভালো লাগছে। অনেক নারী ও পুরুষ আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে ই-মেইল করছে। অনেক নারী ই-মেইলে জানাচ্ছেন, তাদের ধারণা ছিলো হিজাব পরে ব্যারিস্টার হওয়া যাবে না, জাজ হওয়া তো প্রশ্নই উঠে না।

রাফিয়া আরশাদ জানান, ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশের জাজ হতে পারবো জীবনে আমি কল্পনাও করিনি। আমার ইচ্ছা ছিলো ভালো আইনজীবী হওয়ার। তা হতে বেশ কয়েক বছর কাজও করে যাচ্ছিলাম। জাজ হতে পেরে পরম আনন্দ উপভোগ করছি বলে মনে করতে পারেন।

তিনি আরো জানান, আমার আজকের অর্জন আমার যোগ্যতার চেয়ে বেশি পাওয়া। আমি মনে করি প্রত্যেক নারীরই তাদের যোগ্যতাকে কাজে লাগানো দরকার। বিশেষ করে মু’সলিম নারীদের।

ব্রিটেনের মতো দেশে হিজাব পড়ে সাফল্যের উচ্চ শিখরে পৌছতে পারবে এমনটা কখনো ভাবেননি রাফিয়া। তবে তার মনে ছিলো দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। হিজাব নিয়ে জীবনের এমনই এক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি সাংবাদিকদের সাথে।
তিনি ২০০১ সালে বাস করতেন ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার এলাকায়। ওই সময় তিনি যখন ইনস অব কোর্ট স্কুল অব ’ল -এর স্কলারশিপের ইন্টারভিউ দিতে যান তখন তার পরিবারেরই এক সদস্য তাকে হিজাব না পরে ইন্টারভিউ দিতে পরামর্শ দেন। রাফিয়ার ওই স্বজন একইসাথে তাকে আরো বলেন, শুধু এই ইন্টারভিউ নয় জীবনে তোমার সফলতা ধীরে ধীরে কমে যাবে, যদি তুমি হিজাব পরিধান করো।

কিন্তু রাফিয়া তার পরামর্শ গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, আমি হিজাব পরেই ইন্টারভিউতে যাই। আমার বিশ্বাস ছিলো, আমি যেখানে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলাম তারা আমাকে যোগ্য মনে করলে অবশ্যই তারা আমাকে নিবে। আমি কি চাই সেটা মুখ্য বি’ষয় নয়। পরে আমি সফল হই, স্কলারশিপের জন্য মনোনীত করা হয় আমাকে। সেটা ছিলো আমার জীবনের প্রথম একটি অসামান্য সাফল্য।

পরে ২০০২ সালে রাফিয়া আরশাদ ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে যোগ দেন সেন্ট মেরীস ফেমিলি ল চেম্বারে। গত ১৫ বছর যাবৎ তিনি কাজ করছেন প্রাইভেট ল চিলড্রেন, ফোর্সড মেরিজ, ফিমেইল জেনিটাল মিউটিলেশন। এছাড়াও তিনি ইসলামিক আইনের যে কোন বি’ষয়ে আইনগত সমস্যায় সমাধান দিয়ে থাকেন। রাফিয়া আরশাদ ইসলামিক পারিবারিক আইনের উপর বেশ কয়েকটি পাঠ্য বইও লিখেছেন।

ব্রিটেনের বহু সাংস্কৃতিক সমাজে বেড়ে উঠে রাফিয়া আরশাদ তার সমাজের জন্যও কাজ করতেন চান। বৈচিত্র্যপূর্ণ এই সমাজের দুঃখ বেদনা সমাজ পরিচালকদের কাছে উচ্চস্বরে ও স্পষ্টভাবে তিনি নিশ্চিতভাবে পৌছে দিতে কাজ করতে আগ্রহী তিনি। রাফিয়া আরো চান, ব্রিটেনের মু’সলিম তরুণ-তরুণীরা ভালো কিছু করার ইচ্ছা থাকলে তারা তা অর্জন করতে পারবে, তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here