করোনা থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে দিনরাত লড়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা-পরিচ্ছনতাকর্মী, পু’লিশ, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রা’ণঘা’তী এ ভাইরাসের বি’রুদ্ধে দিন-রাত এক করে লড়ছেন তারা।

তাদের এই ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। এ ত্যাগের পুরস্কার তারা নিশ্চিত পাবেন এমন বিশ্বাস মুশফিকের। তিনি দেশবাসীকে এই কঠিন সময় দ্রুত অতিক্রম করার জন্য রোজা রেখে নামাজ পড়ে দোয়া করার আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে মঙ্গলবার এক ভিডিওবার্তায় মুশফিক বলেন, আসসালামুল আলাইকুম। আপনারা জানেন, সারাবিশ্ব এখন করোনাভাইরাসের বি’রুদ্ধে যু’দ্ধ করছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

আমি সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পু’লিশ, সে’না, র‌্যা’ব এবং আমাদের চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যারা প্রত্যক্ষভাবে এ ভাইরাসের বি’রুদ্ধে লড়ছেন, যেন আমরা-আপনারা নিরাপদে থাকতে পারি, তাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে সালাম ও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত, মহান আল্লাহতায়ালা তাদের এ ত্যাগ দেখছেন এবং এর পুরস্কার ইনশাল্লাহ আপনারা অবশ্যই পাবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করছি সবাইকে সাহায্য করতে। এ দিনে সবাইকে আহ্বান করছি, যে যেভাবে পারেন সবাই সহযোগিতা করুন। মনে রাখবেন, আপনি ও আপনার পরিবারের শুধু ভালো থাকলে চলবে না। আপনার আশপাশের তথা পুরো দেশের মানুষ যেন ভালো থাকতে পারেন, তারা যেন সুস্থ থাকতে পারেন, যেন খাবারের অভাবে দিন পার না করতে হয়, সেটি দেখার দায়িত্ব আমার, আপনার সবার।

মুশির আহ্বান, আসুন আমরা সবাই ঘরে থাকি। কিন্তু যেভাবেই পারি আমরা সাহায্য করার চেষ্টা করি। একমাত্র আমাদের সবার প্রচেষ্টাই পারে এ কঠিন মূহূর্তটাকে তাড়াতাড়ি প্রতিরোধ করতে। এমনকি কারও যদি সামর্থ্য না হয়, তারা নামাজ পড়ে, রোজা রেখে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, যেন এ কঠিন সময়টা আল্লাহ আমাদের তাড়াতাড়ি পার করতে সাহায্য করেন।

করোনায় ৭০০ পরিবারের এক মাসের দায়িত্ব নিলেন ক্রিকেটার নাজমুল ইসলাম অপু

এরই মধ্যে জাতীয় দলে খেলা ব্যাটসম্যান রনি তালুকদার ৫০০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার এগিয়ে এসেছেন জাতীয় দলে খেলা আরেক ক্রিকেটার নাজমুল ইসলাম অপু। ৭০০ দরিদ্র পরিবারকে দিচ্ছেন খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

প্রতি সপ্তাহেই এই ত্রাণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অপু। যেন অন্তত একটা মাস কাজ হা’রানো মানুষগুলো চলতে পারে। এই নিয়ে অপু বলেন, ‘সবাই হয়তো একবারেই ত্রাণ দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমি দেবো প্রতি সপ্তাহে। যেন পরের সপ্তাহের জন্য চিন্তা করতে না হয়।

এভাবে যতটা সম্ভব নিজের ও যারা অর্থবান আছেন তাদের সাহায্য নিয়ে ত্রাণ কাজ চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবো। এরই মধ্যে তামিম ভাই টাকা পাঠিয়েছেন। আমরা ৫০০ লোকের তালিকা প্রস্তুত করে ফে’লেছি। ২০০ লোকের তালিকা করবো।’ পৌঁছে দেয়া হবে বাড়ি বাড়ি সারাদেশে ত্রাণ নিতে গিয়ে জটলা পাকাচ্ছে মানুষ। এতে করে করোনা ভাইরাসের ঝুঁ’কি বাড়ছে দেশে।

তাই মানুষ ডেকে ভিড় না করে ত্রাণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাজমুল ইসলাম। নিজের জন্য ঝুঁ’কি হলেও তালিকা করে একেবারে দরিদ্র মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি পৌঁছে দিয়ে আসবেন চাল, ডাল তেল। তিনি বলেন, ‘যদি মানুষ ডেকে দেই লাভ কি! ভিড় হবে, সেখানে উপকারের চেয়ে ক্ষ’তি বেশি।

তাই আমি ঠিক করেছি বাড়ি বাড়ি গিয়েই পৌঁছে দেবো। যেন ছোঁয়াচে এই ভাইরাস থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। এতে আমার কিছুটা ঝুঁ’কি থাকে। কিন্তু এমন সময় এসব ভেবে লাভ নেই।’

সুনামগঞ্জে শি’শুর আকুতি দেখে ১ মাসের খাবার নিয়ে হাজির সুনামগঞ্জ পু’লিশ

ফেসবুকে শি’শু ফরহাদ আহমদের আকুতি দেখে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে অ’সহায় এক পরিবারকে ১ মাসের খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী। এর আগে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজে’লার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন বাঘেরকোনা গ্রামের উক্ত অ’সহায় পরিবারের কথা ফেসবুকে তুলে ধরেন স্থানীয় এক সংবাদকর্মী।

স্থানীয় সূত্রে যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজে’লার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন বাঘেরকোনা গ্রামের ছালেহা বেগমের বড় ছেলে শি’শু ফরহাদ আহমদ ও ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (৩) কে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করেন আব্দুল মান্নান। তিনি দ্বিতীয় পরিবার নিয়ে আছেন অন্যগ্রামে। সেই থেকে দুই শি’শু সন্তানকে নিয়ে জীবনযু’দ্ধ শুরু ছালেহা বেগমের।

তবে করোনাভাইরাসে ঘরব’ন্দি থাকায় খাদ্যের অভাবে পড়েন বাবার ভিটায় থাকা ছালেহা। পাড়াপড়শির ঘর থেকে খাদ্য চেয়ে এনে চলছিলো তাদের। খবর পেয়ে এমন দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন সংবাদকর্মী নাহিদ। তারপরই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

আর এ ভিডিও দেখে থানার ওসি রোববার (১২ এপ্রিল) নিজে গিয়ে অ’সহায় পরিবারের কাছে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আসেন। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ ও তেল।

খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ, সহ সভাপতি এম এ কাশেম, সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাঈন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ সোহেল তালুকদার, সদস্য জামিউল ইসলাম তুরান, দপ্তর সম্পাদক ইয়াকুব শাহরিয়ার, সদস্য আলাল হোসেন রাফি, সাংবাদিক নেওয়াজ আহমেদ প্রমুখ।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ই’নচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘একটি ভিডিও দেখে আমি সংবাদটি পাই। পরে খোঁজ নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে দেখেছি। পাশে দাঁড়ানোর একটু চেষ্টা করেছি মাত্র। মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ পু’লিশ এ উপজে’লার মানুষের পাশে আছে। সবাই ঘরে থাকুন। নিরাপদে থাকুন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here