আমেরিকান কলেজ অব ফিজিশিয়ান জানিয়েছে, নতুন এ গবেষণা প্রতিবেদনের সঙ্গে আগের ধারণাকৃত ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন সময়সীমার মিল রয়েছে।

গত ডিসেম্বরে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কিছুদিনের মধ্যেই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, কারো শরীরে করোনা সংক্রমণের স’ন্দেহ থাকলে তাকে দুই সপ্তাহ আলাদা রাখা উচিত। কারণ, শরীরে করোনাভাইরাস থাকলে এই সময়ের মধ্যেই তার লক্ষণ প্রকাশ পাবে। বয়স্ক এবং অন্যান্য শারী’রিক সমস্যায় ভোগা মানুষকে বেশি আ’ক্রান্ত করছে করোনা ভাইরাস। তবে উহানের ১০০ বছর বয়সী আ’ক্রান্ত এক ব্যক্তি সেরে ওঠেছেন এই রোগ থেকে। গত ৭ই মার্চ তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়াও হয়েছে। দেশে প্রথমে ৮ই মার্চ আ’ক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশও ৮০ বছর বয়সের একজন সুস্থ হওয়ার খবর দিয়েছে আইইডিসিআর।

এদিকে দেশে ৬৮ শতাংশ করোনা রো’গী বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ৩২ শতাংশ রো’গীকে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। ৮০ ভাগ রো’গীর চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না বলো জানায় সংস্থাটি।

বুধবার জ্বর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় এক স্কুলছাত্র। করোনা ধরা পড়ায় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তাকে কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্ট্রেচারে করে তাকে এ্যাম্বুলেন্সে তোলার কথা থাকলেও কেউই এগিয়ে আসেনি সাহায্যে। উপায় না দেখে শি’শুটির বাবা তাকে কোলে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন।

করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্তদের চিকিৎসা সমন্বয়ে মা’রাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি কোভিড-১৯ আ’ক্রান্ত রো’গীরা ন্যূনতম চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এসব রো’গীর চিকিৎসায় নিবেদিত হাসপাতালগুলোয় যে চিকিৎসকদের বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে, তাদের অনেকে যোগদান না-করে নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করছেন। আবার যে সামান্য কয়েকজন চিকিৎসক রো’গীদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের প্রশাসনিকভাবে হ’য়রানি করা হচ্ছে। শুধু সমন্বয়হীনতার কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে; কিন্তু এর দায়িত্ব কেউ নিচ্ছেন না।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৫ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃ’তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৫ জন। এছাড়া শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নতুন করে আরও ২৬৬ জন করোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছে। আ’ক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ১৮৩৮ জন হয়েছে।

আরো সংবাদ

দেশে করোনায় সুস্থতার চেয়ে মৃ’ত্যু হার বেশি

দেশে করোনায় মৃ’ত্যু ও আ’ক্রান্ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কোন উদ্যোগই কাজে আসছে না। সুস্থের চেয়ে মৃ’ত্যুর সংখ্যাই বেশি। বিশ্বের গড় সুস্থতার চেয়েও বাংলাদেশ পিছিয়ে। দেশে সুস্থতার হার ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৫৮ জন। মোট আ’ক্রান্ত হয়েছেন ১৮৩৮ জন। মৃ’ত্যুবরণ করেছেন ৭৫ জন।

দেশে করোনার রো’গী কম সুস্থ হওয়ার কারণ সম্পর্কে আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সাধারণ লক্ষণ বা উপসর্গ চলে গেলে ২৪ ঘণ্টা পরপর দুইটি পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলে তাকে সুস্থ হিসেবে ধরা হয়। এতে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকলে রয়েছে।

অন্যদিকে সারা বিশ্বের আ’ক্রান্তের ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ গড়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখের ওপরে। বিশ্বে মোট আ’ক্রান্ত ২১ লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি। মৃ’তের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। ভাইরাসটির উৎপত্তি স্থল সেই চীনে সুস্থতার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

সাধারণত করোনা ভাইরাসে আ’ক্রান্ত হওয়ার সময় থেকে প্রকাশ পাওয়ার পর পুরোপুরি সুস্থ হতে ৩০ দিন সময় লাগে। যদিও মানুষের আ’তঙ্ক বেড়েই চলেছে করোনাকে ঘিরে। তবে একটু হিসাব দেখলেই বোঝা যাবে করোনা মারণ ফাঁদ হলেও এই রোগে আ’ক্রান্ত হওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষ সুস্থও হয়ে উঠছেন।

মানুষের দেহে ছয় ধরনের করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে, যথা- আলফা করোনা ভাইরাস, বিটা করোনা ভাইরাস এবং বাকি দুটি সার্স ও মার্স তাদের প্রা’ণঘা’তী লক্ষণগুলোর জন্য পরিচিত।

হিউম্যান করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কারণ হিউম্যান করোনা ভাইরাস সাধারণত একজন ব্যক্তির শ্বাসনালীকে প্রভাবিত করে। শ্বাসনালীতে সংক্রমিত তরল কাশি বা হাঁচির সময় এক ব্যক্তির থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে চলে যায়। করোনাভাইরাসের পূর্ববর্তী লক্ষণগুলো সর্দি, গলা ব্যথা, কাশি, মাথা ব্যাথা, জ্বর, হাঁচি, অবসাদ, শ্বাস নিতে ক’ষ্ট হওয়া।

চীনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কিছু গবেষণা বলছে যে, করোনায় আ’ক্রান্ত কারো অ’সুস্থবোধ করা শুরু হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁ’কি খুব কম।
তবে চীনের সেন্টার ফর ডিজেজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন টিম সতর্ক করে বলেছে, অধিকাংশ লোকজনের শরীরে সামান্য লক্ষণ দেখা দেয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়ে না।

যদি কেউ করোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে যায়, তবে তা কতদিনে বোঝা যাবে তা নিয়ে বিভ্রান্তে অনেকেই। নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পাঁচদিনের মধ্যেই আ’ক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে অ’সুস্থতার লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে এতে ১২ দিনের মতো সময় লাগে।

অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ করোনা রো’গীর শরীরে ১২ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পেয়েছে। তবে, গড়ে এ সময়সীমা ছিল মাত্র পাঁচদিন। অর্থাৎ, ভাইরাস সংক্রমণের পাঁচদিনের মধ্যেই বেশিরভাগ রো’গীর শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা গেছে।

আমেরিকান কলেজ অব ফিজিশিয়ান জানিয়েছে, নতুন এ গবেষণা প্রতিবেদনের সঙ্গে আগের ধারণাকৃত ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন সময়সীমার মিল রয়েছে।

গত ডিসেম্বরে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কিছুদিনের মধ্যেই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, কারো শরীরে করোনা সংক্রমণের স’ন্দেহ থাকলে তাকে দুই সপ্তাহ আলাদা রাখা উচিত। কারণ, শরীরে করোনাভাইরাস থাকলে এই সময়ের মধ্যেই তার লক্ষণ প্রকাশ পাবে। বয়স্ক এবং অন্যান্য শারী’রিক সমস্যায় ভোগা মানুষকে বেশি আ’ক্রান্ত করছে করোনা ভাইরাস। তবে উহানের ১০০ বছর বয়সী আ’ক্রান্ত এক ব্যক্তি সেরে ওঠেছেন এই রোগ থেকে। গত ৭ই মার্চ তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়াও হয়েছে। দেশে প্রথমে ৮ই মার্চ আ’ক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশও ৮০ বছর বয়সের একজন সুস্থ হওয়ার খবর দিয়েছে আইইডিসিআর।

এদিকে দেশে ৬৮ শতাংশ করোনা রো’গী বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ৩২ শতাংশ রো’গীকে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। ৮০ ভাগ রো’গীর চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না বলো জানায় সংস্থাটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here